"গাজার পথে পরবর্তী নৌযান প্রস্তুত||আমরা থামবো না"
ইসরায়েলের অবরোধের কবলে থাকা গাজা উপত্যকায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য রিমা হাসান পরিচালিত একটি নৌযান অভিযান সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে। “ফ্লোটিলা টু গাজা” নামক এই প্রচেষ্টা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাধাপ্রাপ্ত হলে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আটকের পর প্যারিসে ফিরে আসা রিমা হাসান একটি দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন “পরবর্তী নৌযান প্রস্তুত, আমরা থামবো না।”
১ জুন ২০২৫ তারিখে “Madleen” নামক মানবিক সাহায্যবাহী নৌযানটি ইতালির এক বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল অবরুদ্ধ গাজায় সরাসরি খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া।
নৌযানটিতে ছিলেন ১২ জন মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী, যাঁরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক – ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, ব্রাজিল, সুইডেন, স্পেন এবং নেদারল্যান্ডস।
৮ জুন রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছার পর ইসরায়েলি নৌবাহিনী নৌযানটিকে আটক করে এবং সকল যাত্রীকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ফ্রান্সের বামপন্থী দল LFI-এর তরুণ সদস্য রিমা হাসান।
রিমা হাসান এবং অন্যান্য কর্মীদের রামলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রিমাকে একক সেলে রাখা হয় এবং তিনি অনশন ও মৌন প্রতিবাদে অংশ নেন বলে জানা যায়।
তিনি জানান, “আমাদের সঙ্গে কোনো অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়েছে, যদিও আমরা শুধুই মানবিক সহায়তা দিতে চেয়েছিলাম।” ১২ জুন, তাঁকে মুক্তি দিয়ে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। সাথে ফেরেন আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নাগরিক।
এদিকে প্যারিসের চার্লস দো গোল বিমানবন্দরে পৌঁছেই রিমা হাসান সাংবাদিকদের জানান:
“ইসরায়েলকে বলছি—এই অভিযান থামানো যাবে না। পরবর্তী নৌযান খুব দ্রুত রওনা দেবে। যত দরকার, আমরা আরও পাঠাবো।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি ও তাঁর দল গাজার মানুষদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তার দল LFI (La France Insoumise)- এর নেতা ও কর্মীরা তাঁকে সংবর্ধনা জানান এবং এই অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ ভোটে ১৪৯টি দেশ গাজার অবরোধ প্রত্যাহারের পক্ষে মত দেয়। কেবলমাত্র ১১টি দেশ, যার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম, প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে । মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে এবং ফ্রান্স সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রিমা হাসানের ঘোষণায় স্পষ্ট—এই মানবিক মিশন চলবে। পরবর্তী নৌযান পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে তাঁর দল জানায়।
তবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে গাজার দুর্দশা ও অবরোধ ইস্যুটি আরও জোরালোভাবে উত্থাপিত হচ্ছে।
রিমা হাসানের নেতৃত্বে এই মানবিক অভিযান একদিকে যেমন গাজার মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের প্রতীক, অন্যদিকে এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনাও সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরবর্তী ফ্লোটিলা কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের জন্য এক শক্ত প্রতীকী চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।