বেড়েছে মাংসের দাম, মাছে স্বস্তি

বেড়েছে মাংসের দাম, মাছে স্বস্তি

চট্টগ্রাম বন্দরনগরী চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। গরু-ছাগলের মাংসের দামও বেড়েছে। তবে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় গত দু’সপ্তাহ ধরে মাছে স্বস্তি মিলছে। এছাড়া সবজির চড়া দর এবং মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত আছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) নগরীর কাজির দেউড়ি ও আসদার দিঘীর পাড় কাঁচাবাজার এবং বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানে দর যাচাই করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি গত সপ্তাহে আগের সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ সপ্তাহে আবার দাম বেড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা, সাদা লেয়ার ও লাল লেয়ার মুরগি ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের মতোই আছে। জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

অন্যান্য মাংসের মধ্যে গরুর মাংস কেজিতে অন্তঃত ৫০ টাকা বেড়ে ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসি ও পাঁঠা ছাগলের মাংস কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ১২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম অপরিবর্তিত আছে। ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৩০ টাকা, দেশি মুরগি ২৪০ টাকা ও হাঁসের ডিম ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ গত দু’সপ্তাহ ধরেই বেশি। এতে সব ধরনের মাছের দামই মোটামুটি স্বস্ত্বির পর্যায়ে আছে। বাজারে লইট্যা ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, ফাইস্যা ১২০ থেকে ২০০ টাকা, পোয়া ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, শাপলা পাতা মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কোরাল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, রুপচান্দা ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা, আইড় ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা, চিংড়ি (বাগদা ও গলদা) সাইজভেদে ৬০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

চাষের মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০, পুঁটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৪৫০, কৈ ২০০ থেকে ২২০ এবং তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস মিলছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

তবে ইলিশ এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। খুচরা বাজারে এক-দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকায়, কোথাও কোথাও আবার তার চেয়েও বেশি। তবে খুচরায় বেশি মিলছে ৫০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ, যেগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এক কেজির কিছু কম ওজনের ইলিশ ১৮০০ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। আর ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দুই-আড়াই কেজি ওজনের বড় ইলিশ মাছ প্রতিকেজি তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে নগরীর কাজির দেউড়ি বাজারে।

সবজির দর এখনও নিম্নমুখী হয়নি। কাঁকরোল ৯০ টাকা, বরবটি, ঝিঙা, পটল, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে ও লাউ ৫০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, গাজর দেশি ৮০ টাকা, চায়নার ১৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৭০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, মূলা ৬০ দরে বিক্রি হয়েছে। কাঁচামরিচ ১২০-১৩০ টাকা, ধনেপাতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের আলু ২৫ টাকা, বগুড়ার লাল আলু ৩৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের মধ্যে কচু শাক ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও লাল শাক ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দর এখনও চড়াই আছে। ‍খুচরায় সরু চালের মধ্যে ডায়মন্ড, মঞ্জুর, সাগর, রসিদ- এসব ব্র্যান্ডের মিনিটেক চাল প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের মিনিকেট আতপ মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের চাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। স্বর্ণা ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের মাঝারি মানের চাল ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে মুদি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত আছে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চায়না আদা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা ১২০ দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া প্রতি কেজি ছোট মসুর ডাল ১৩০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১০ টাকা, মাষকলাই ডাল ১৮০ টাকা, ডাবলি ৬০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, কাজু বাদাম ১ হাজার ৭০০ টাকা, পেস্তা বাদাম ২ হাজার ৭০০ টাকা, কাঠ বাদাম ১ হাজার ২২০ টাকা, কিশমিশ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দারুচিনি ৫২০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪০০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৩০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৬০০ টাকা, জিরা ৬০০ টাকা, প্যাকেট পোলাও চাল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, খোলা পোলাও চাল মান ভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

আর প্রতি কেজি প্যাকেটজাত সাদা চিনি ১২৫ টাকা, খোলা সাদা চিনি ১২০ টাকা, খোলা লালচিনি ১৪০ টাকা, প্যাকেট লালচিনি ১৭০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ৯০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২৫০ টাকায় দরে বিক্রি হয়েছে।